ফ্যামিলি কার্ড সাধারণত সরকারের একটি সামাজিক সহায়তা বা তথ্যভিত্তিক কার্ড, যেখানে একটি পরিবারের সদস্যদের মৌলিক তথ্য একসাথে নথিভুক্ত থাকে। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নযনের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেয়া হবে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”। পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে ১৪টি ইউনিটে ১০,০০০ পরিবারকে এ কার্ড প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে প্রতি ধাপে ১০,০০০ করে বৃদ্ধি করে জুন ২০২৬ এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে ৪০০০০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত করা হবে। তবে জরিপকৃত সকল পরিবারকেই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন গাইডলাইন বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এর মূল দর্শন হলো- “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”। এই কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিতরণে প্রচলিত অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি স্বচ্ছ, বৈজ্ঞানিক ও তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর কাঠামো নিশ্চিত করেছে। এই কার্যক্রমের অনন্য দিক হলো নারীর ‘ক্ষমতায়ন। পরিবারের মায়ের নামে কার্ড ইস্যু করার মাধ্যমে সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পিএমটি (PMT) স্কোরিং এবং ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (DSR) ব্যবহারের ফলে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে, যা সামাজিক নিরাপত্তাকে সরকারি দয়ার পরিবর্তে ‘নাগরিক অধিকারে’ রূপান্তর করবে।
একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্বাবলম্বীকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি “সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড” হিসেবে রূপান্তর করা।
© ২০২৬ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।